বাদশাহ ও বালক (আসহাবে উখদূদের ঘটনাভিত্তিক ইসলামী কাহিনি) সংক্ষেপে:
এক দেশে এক অত্যাচারী বাদশাহ ছিল। তার একজন জাদুকর ছিল, যে বৃদ্ধ হয়ে গেলে একজন বুদ্ধিমান বালককে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়।
বালক প্রতিদিন জাদুকরের কাছে যাওয়ার পথে একজন সৎ সাধকের (রাহিব) কাছে যেত এবং আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা গ্রহণ করত।
ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে যে জাদু মিথ্যা, আর সত্য হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান।
আল্লাহর ইচ্ছায় বালকের মাধ্যমে রোগীরা সুস্থ হতে লাগল। এতে অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল। বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে রাহিব ও ঈমানদারদের ওপর নির্যাতন শুরু করল।
শেষ পর্যন্ত বাদশাহ বালককে হত্যা করতে বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তখন বালক নিজেই একটি উপায় বলে দেয়।
সে বলে, “সব মানুষকে একত্র করো, আমাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বলো— ‘বালকের রবের নামে’— তারপর তীর ছুড়ো।”
বাদশাহ তাই করল। আল্লাহর নামে তীর ছোড়া হলে বালক শহীদ হয়ে যায়। কিন্তু মানুষ এই ঘটনা দেখে বলে ওঠে, “আমরা বালকের রবের প্রতি ঈমান আনলাম।”
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাদশাহ বড় বড় অগ্নিকুণ্ড (খন্দক) খনন করে ঈমানদারদের আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যা করে। এ ঘটনাই কুরআনের Surah Al-Buruj-এ আসহাবে উখদূদ (খন্দকের অধিবাসী) নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল শিক্ষা:
সত্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তিনি সাহায্য করেন।
একজন সৎ মানুষের মাধ্যমে পুরো সমাজ পরিবর্তিত হতে পারে।
ঈমানের মূল্য জীবন থেকেও বড়।
Comments
Post a Comment