দুই জান্নাতের মালিক

 

 দুই জান্নাতের মালিক

দুই জান্নাতের মালিকের কাহিনি

এই কাহিনিটি কুরআনের Surah Al-Kahf (সূরা কাহফ, আয়াত ৩২–৪৪)-এ বর্ণিত হয়েছে। এখানে “দুই জান্নাত” বলতে দুইটি সুন্দর বাগানকে বোঝানো হয়েছে।

কাহিনির শুরু

একসময় দুই ব্যক্তি ছিল। তাদের একজনকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দান করেছিলেন। তার ছিল দুটি বিশাল আঙ্গুরের বাগান, বাগানের চারপাশে খেজুর গাছ, মাঝখানে শস্যক্ষেত এবং প্রবাহমান নদী। বাগানগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল এবং প্রতি বছর প্রচুর ফসল দিত।

অন্য ব্যক্তি তুলনামূলকভাবে গরিব ছিল, কিন্তু সে ছিল ঈমানদার।

ধনীর অহংকার

একদিন ধনী ব্যক্তি তার বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে অহংকার করে বলল:

“আমার সম্পদ তোমার চেয়ে বেশি এবং লোকবলও বেশি।”

সে নিজের বাগানে প্রবেশ করে আল্লাহর নিয়ামতের শোকর না করে গর্ব করতে লাগল। সে মনে করল তার সম্পদ কখনো ধ্বংস হবে না।

সে বলল:

  • “আমি মনে করি না এই বাগান কখনো নষ্ট হবে।”
  • “আমি মনে করি না কিয়ামত সংঘটিত হবে।”
  • “যদি আমার রবের কাছে ফিরিয়েও নেওয়া হয়, তবে আমি এর চেয়েও উত্তম কিছু পাব।”

ঈমানদার বন্ধুর উপদেশ

ঈমানদার বন্ধু তাকে নম্রভাবে উপদেশ দিল:

  • তুমি কি সেই আল্লাহকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন?
  • আমার রব আল্লাহ, আমি তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না।
  • যখন তুমি বাগানে প্রবেশ করলে তখন বলা উচিত ছিল:

"মা শা আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"
(আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।)

তিনি আরও বললেন, আজ তুমি আমাকে দরিদ্র দেখছ, কিন্তু আল্লাহ চাইলে আমাকে তোমার চেয়ে উত্তম কিছু দিতে পারেন এবং তোমার বাগান ধ্বংস করে দিতে পারেন।

আল্লাহর শাস্তি

অহংকারী ব্যক্তি উপদেশ গ্রহণ করল না।

অবশেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপর্যয় নেমে এল। রাতারাতি তার বাগান ধ্বংস হয়ে গেল। ফসল নষ্ট হয়ে গেল, গাছপালা শুকিয়ে গেল, সম্পদ শেষ হয়ে গেল।

সকালে সে দেখল তার জীবনের গর্ব ও অহংকারের সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তখন সে আফসোস করতে লাগল:

“হায়! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরিক না করতাম!”

কিন্তু তখন আর কোনো উপকার হলো না।

কাহিনির শিক্ষা

১. সম্পদ আল্লাহর নিয়ামত, অহংকারের কারণ নয়।
২. ধন-সম্পদ চিরস্থায়ী নয়; আল্লাহ চাইলে মুহূর্তেই তা কেড়ে নিতে পারেন।
৩. সফলতা ও সম্পদ দেখে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া বিপজ্জনক।
৪. “মা শা আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বলা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
৫. প্রকৃত মর্যাদা সম্পদে নয়, ঈমান ও তাকওয়ায়।


Comments