হযরত সালেহ (আ.) ও আল্লাহর উটনীর কাহিনি
হযরত Salih সালেহ (আ.)-কে আল্লাহ সামূদ জাতির কাছে নবী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। সামূদ জাতি পাহাড় কেটে সুন্দর ঘরবাড়ি নির্মাণ করত এবং শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু তারা মূর্তিপূজা করত এবং আল্লাহর অবাধ্য ছিল।
অলৌকিক নিদর্শনের দাবি
সালেহ (আ.) তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানালে তারা প্রমাণ দাবি করে। তারা বলল, যদি তুমি সত্য নবী হও, তবে এই বিশাল পাথর থেকে একটি বিশেষ উটনী বের করে দেখাও।
আল্লাহর নির্দেশে তাদের চাওয়া অনুযায়ী পাথর থেকে একটি অলৌকিক উটনী বের হয়ে এল। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নিদর্শন।
উটনীর জন্য নির্ধারিত নিয়ম
সালেহ (আ.) তাদের বললেন:
- এই উটনী আল্লাহর নিদর্শন।
- একদিন উটনী কূপের পানি পান করবে, আর অন্যদিন মানুষ পানি ব্যবহার করবে।
- উটনীকে কোনো কষ্ট দেওয়া যাবে না।
কিন্তু জাতির অহংকারী নেতারা উটনীটিকে সহ্য করতে পারল না।
উটনী হত্যা
কিছু দুর্বৃত্ত লোক ষড়যন্ত্র করে উটনীটিকে হত্যা করে ফেলল। এরপর তারা সালেহ (আ.)-কে উপহাস করতে লাগল এবং শাস্তি আনতে বলল।
সালেহ (আ.) তাদের সতর্ক করে বললেন যে তিন দিনের মধ্যে আল্লাহর শাস্তি আসবে।
আল্লাহর শাস্তি
তারা তওবা করল না। নির্ধারিত সময় শেষে এক ভয়ঙ্কর শব্দ, ভূমিকম্প ও আযাব তাদের ওপর নেমে এল। ফলে সামূদ জাতির অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। সালেহ (আ.) এবং অল্পসংখ্যক ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহর রহমতে রক্ষা পান।
মূল শিক্ষা
- আল্লাহর নিদর্শন দেখেও অহংকার করলে মানুষ ধ্বংসের পথে যায়।
- নবীদের উপদেশ অবহেলা করা বিপজ্জনক।
- আল্লাহর আদেশ অমান্য করার পরিণতি কঠিন।
- সত্য গ্রহণের জন্য অলৌকিক নিদর্শনের চেয়ে বিনয়ী হৃদয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Comments
Post a Comment